পণ্যের প্রচারে মজার বা আদুরে চরিত্র ব্যবহার খুবই পরিচিত বিষয়। সাধারণত এসব ক্ষেত্রে বাস্তব মানব চরিত্রের বদলে প্রাণী বা কাল্পনিক কিছু প্রাধান্য পায়। ক্যারেক্টার মার্কেটিংয়ের এ কৌশল প্রয়োগ করে ভোক্তার কাছে সহজে বার্তা পৌঁছে দেয়া যায়। থাইল্যান্ডে পণ্য ও পরিষেবার প্রচারে ব্র্যান্ডগুলো ক্রমবর্ধমান হারে বিভিন্ন ধরনের মাসকট, অ্যানিমেটেড কিংবা প্রতীকী চরিত্র ব্যবহার করছে। সম্প্রতি দেশটিতে মু ডেং নামের ক্ষুদ্র জলহস্তী জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। খাও খেও ওপেন চিড়িয়াখানায় থাকা জলহস্তীটি বিভিন্ন ধরনের সরকারি প্রচারে ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে ব্যবহার হচ্ছে পণ্য ও পণ্যের বিজ্ঞাপনে। গত বছর থাইল্যান্ডে ভাইরাল হয়েছিল হলদে রঙের মিষ্টি চেহারার ভালুক বাটারবিয়ার। এটি কফি বাই দাও গ্রুপের মালিকানাধীন ডেজার্ট শপ বাটারবিয়ারের মাসকট। ভালুকটির আলাদা ভক্তশ্রেণী তৈরির পাশাপাশি ব্র্যান্ডটির বিক্রি বেড়েছে। এছাড়া বাটারবিয়ারের ছবি ব্যবহার করে অন্যান্য ব্র্যান্ডের সঙ্গেও সহযোগিতার মাধ্যমে ফোন কভার, ব্যাগ, খাদ্যপণ্য ও দৈনন্দিন পণ্য বাজারজাত হচ্ছে। থাই মিডিয়া কোম্পানি ভিথিতা গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক পিমপিচা উৎসাহাজিত জানান, গত বছরের তুলনায় থাইল্যান্ডে ক্যারেক্টার মার্কেটিং অনেক বেড়েছে। ফলে বিভিন্ন খাতের ব্র্যান্ড বা প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন চরিত্র ও মাসকট আত্মপ্রকাশ করেছে। মানুষ নয় এ চরিত্র তৈরি সম্পর্কে পিমপিচা উৎসাহাজিতের মতে, কাল্পনিক বা বাস্তব নয়, এমন চরিত্রের ব্যবহারের অন্যতম সুবিধা হলো এটি সব বয়স ও শ্রেণীর মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হতে পারে। অন্যদিকে মানব চরিত্রগুলো পূর্বধারণার শিকার হয়। বয়স, চেহারা বা কিছু কর্মকাণ্ডের কারণে এসব চরিত্রের সঙ্গে একাত্ম হতে নিরুৎসাহিত হতে পারে ভোক্তা। অবশ্য দীর্ঘমেয়াদে কাল্পনিক চরিত্র ব্যবহার কোম্পানির জন্য সাশ্রয়ী। যদি কোনো চরিত্র সতর্কতার সঙ্গে সৃষ্টি ও গড়ে তোলা হয় এবং ধারাবাহিকভাবে প্রচার করা হয়, তবে তা নির্মাতার জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবান সম্পদে পরিণত হতে পারে বলে মত পিমপিচা উৎসাহাজিতের। খবর ও ছবি ব্যাংকক পোস্ট